April 23, 2026, 10:40 am
নোটিশ :

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী বাড্ডা জাগরণী ক্লাবে প্রতি রাতেই চলছে জমজমাট জুয়ার আসর, নিরব প্রশাসন!

স্টাফ রিপোর্টারঃ

রাজধানীর গুলশানে ঐতিহ্যবাহী বাড্ডা জাগরণী সংসদ ক্লাবে দীর্ঘদিন ধরে প্রতি রাতে চলে আসছে জমজমাট জুয়ার আসর। নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষের কষ্টের উপার্জিত অর্থ শুষে নেয়া কাটাকাটি বা ফ্ল্যাশ জুয়া চলে রাতভর।  দুঃখের বিষয় যে এই জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামী মতিঝিল থানা আওয়ামীলীগের পদধারী নেতা সোহেল খান ওরফে ক্যাসিনো সোহেল।
এই সোহেল খান বর্তমানে মতিঝিল থানা আওয়ামীলীগের বঙ্গভবন ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলাসহ একাধিক মাদক মামলাও রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৪/১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্যাসিনো কাণ্ডে আটক অন্যতম যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভুইয়া ওরফে ফ্রিডম খালেদের প্রধান সহযোগী এবং ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবের ক্যাসিনো ম্যানেজার ছিলেন এই সোহেল খান।
২০১৯ সালে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে ফ্রিডম খালেদ অস্ত্রসহ আটক হওয়ার পর কিছুদিন গা-ঢাকা দিয়ে থাকেন সোহেল খান। তারপর আরেক কুখ্যাত সন্ত্রাসী মতিঝিলের সাঈদ কমিশনারের সঙ্গে ভিড়ে যান এবং শাহজাহানপুর রেলওয়ে ক্লাবে জুয়ার ব্যবসা পরিচালনা শুরু করেন। ২০২২ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের মতিঝিল থানার সবগুলো কমিটি চূড়ান্ত করেন কমিশনার সাঈদ, যেখানে মতিঝিল থানাধীন বঙ্গভবন ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক পদ পান সেই সোহেল খান ওরফে ক্যাসিনো সোহেল। ওই ইউনিট কমিটির সভাপতি ছিলেন, রফিকুল ইসলাম। যিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।
সূত্র জানায়, সোহেল খানের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় দুইটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলাগুলো হলো-মতিঝিল থানা মাদক মামলা নং ২৭/২০২২ (৩/১) এবং মতিঝিল থানা বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলা নং ৭২/২০২৪ (১৩৮/১০২)।
এই বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলার এক নম্বর আসামী তৎকালীন সময়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সোহেল খান মতিঝিল এলাকা সম্পূর্ণ ত্যাগ করেন এবং ওই বছরের নভেম্বর মাস থেকে জনৈক মাসুদকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহ্যবাহী বাড্ডা জাগরণী সংসদ ক্লাবের জুয়ার বোর্ড (কাটাকাটি বা কাইট বা দেশী-ফ্ল্যাশ জুয়া) পরিচালনা শুরু করেন-যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সরকারি তিতুমীর কলেজের সাবেক ভিপি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ঢাকা উত্তর বিএনপির সিনিয়র সদস্য জনাব এজিএম শামসুল হককে আহ্বায়ক এবং জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা গোলরক্ষক ছাইদ হাসান কাননকে সদস্য সচিব করে বাড্ডা জাগরণী সংসদের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। অদ্যাবধি ওই কমিটিই ক্লাবটি পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ছাইদ হাসান কাননের কাছে বাড্ডা জাগরণী সংসদ ক্লাবে দীর্ঘদিন ধরে চলা জুয়ার আসর সম্পর্কে জানতে চাইলে, বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
বাড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ’কে জাগরণী ক্লাবে প্রতি রাতে চলমান নিষিদ্ধ জুয়া বন্ধে একাধিকবার  পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হলেও, উনার কাছ থেকে কোনো রকম সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি।



ফেইসবুকে আমরা