মোঃ কামাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগরে পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে লাগামহীন বেড়েই চলছে নিত্য পণ্যের দাম। নিন্মবিত্ত-মধ্যবিও মানুষের বোবা কান্না দেখার মত যেন কেউ নেই। গত ৫ আগষ্টে আ.লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ নেওয়ার পর। এই সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা। কিন্তু অভয়নগরের নওয়াপাড়া বড়ো বাজারসহ আশে পাশের বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, দ্রব্যমূল্যের দাম লাগামহীন স্বস্তি ফেরেনি বাজারগুলোতে। উল্টো রমজানকে সামনে রেখে অধিকাংশ ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েই চলছে প্রতিনিয়ত। দিন পার হতে না হতে রমজানকে সামনে রেখে অসাধু মুনাফা লোভী একশ্রেণীর ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বিভিন্ন নিত্যপণ্য মালামাল মজুদ করে নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে চলেছে। যার প্রতিকার করার কোন পথ খোলা নেই। সূত্র জানায়, অসাধু মজুদদারগণ সক্রিয় ভাবে নিত্যপণ্যে মালামাল গোপনে মজুদ করে চলেছে। ফলে রমজান মাসে প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যে মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে এতে সন্দেহ করার কোন সুযোগ নেই। অন্যদিকে রমজানকে সামনে রেখে বাজারে কোন কোন পণ্যের দাম বেড়েছে, সেটা এখন হিসাব করা বেশ কঠিন। দাম বেড়েছে প্রায় সব পণ্যেরই। যশোরের অভয়নগর নওয়াপাড়া বাজারে ১০ জানুয়ারী থেকে ৫ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত মোটা চাল, প্যাকেটজাত আটা, ময়দা, মসুর ও মুগ ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ ৪ ধরনের মসলা ও ব্রয়লার মুরগীসহ বেশকিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। কোনো ক্ষেত্রে ৫ টাকা,কোনো ক্ষেত্রে ৪০ টাকা। কিছুটা কমেছে আলু ও সবজির দাম অন্যদিকে বাজারে গত কয়েকদিনে চালের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে।
এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। প্রায় সব ধরনের চাল কেজিপ্রতি বেড়েছে ৫ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া আটা-ময়দা ও ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। তেলের দামও লিটারপ্রতি ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। শীত মৌসুমের সব ধরনের সবজি কেজিপ্রতি ৬৫ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস ফুলকপি ও বাঁধাকপির ও আলুর দাম কিছুটা আগের থেকে কমেছে। আলু ১৬ টাকা কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ডাল দেশি ১৩০ টাকা ও মোটা ডাল ১০৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আবার উপজেলার কিছু ছোট বাজার ঘুরে জানা যায়, নওয়াপাড়া বড়ো বাজার থেকে সব নিত্য পণ্যের দাম ১৫/২০ টাকা বাড়তি বিক্রি করছে দোকানিরা। মাঝারি আকারের একটি লাউয়ের দাম ৬৫ টাকা, বড় হলে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে- মাছ, মুরগি, ডিম, আদা-রসুনসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যও। গরুর মাংস ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে নিত্যপণ্যের হঠাৎ এমন দাম বৃদ্ধিতে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। তাদের দাবি ভরা মৌসুমে শীতকালীন সবজির দাম কম হওয়ার কথা, কিন্তুু বাজারের চিত্র ভিন্ন। বাজার করতে আসা আব্দুল রহমান জানান, রমজান শুরু হওয়ার আগেই অনেক কিছুর দাম বেড়ে গেছে। ৫০০ টাকায়ও ব্যাগ ভরেনা। অনেক হিসাব করে বাজার করতে হয়। উপজেলার পুড়াখালী থেকে বাজার করতে আসা হাফিজুর রহমান নামের এক ভ্যান চালক জানান, দিন আনি দিন খায় ভ্যান চালিয়ে বাজারে আসলে মাথায় হাত যা আয় করি তাতে সংসার চলেনা ধারদেনায় পড়ে গেছি কি করবো জানিনা সপ্তাহে একবার বাজার করি দিন যেতে না যেতেই জিনিসপত্রের দাম বাড়তেই আছে আমাদের বেঁচে থাকা সম্ভব না। নওয়াপাড়া বড়ো বাজারের কাঁচামাল বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সব পণ্যের দাম বেড়েছে, আমরা যেরকম কিনবো সেই রকম ভাবেই তো বিক্রি করবো। বড়ো বাজারের আর এক কাঁচা মালসহ মুদি দোকানি মোঃ ওমর আলী জানান, স্থানীয় উৎপাদনকৃত সবজির কিছুটা দাম কম হলেও বাহির থেকে যে পণ্যে আসে তার দাম ২ সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক বেড়েছে।
অন্যদিকে উপজেলা প্রসাশন ও ভোক্তা অধিদপ্তরসহ নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা না করার অভিযোগ ও রয়েছে জন সাধারণের ভেতরে। যদিও উপজেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে অসাধু মজুদদারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকে কিন্তুু হঠাৎ অজানা কোন কারণে অভিযান ধমকে দাড়ায়। ফলে অসাধু মুনাফালোভী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হরহামেশা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যায়। যার ফলে বিপাকে পড়তে হয় মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত মানুষের। জরুরি ভাবে নিত্য পণ্যের লাগামহীন দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়দেব চক্রবর্তী জানান,বাজার নিয়ন্ত্রণে আমাদের অভিযান অব্যহত আছে এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে। এবিষয়ে যশোর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সৈয়দা তামান্না তাসনীম বলেন, মুল্য ছাড়া বেশি দাম নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, পাশাপাশি এরকম যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হবে।