ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১

শিরোনাম : নওগাঁয় বাবার ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু নওগাঁয় এক ভুয়া চিকিৎসকের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড কুষ্টিয়া গণপূর্ত অধিদপ্তর ও জাতীয় শ্রমিকলীগ কর্তৃক শ্রমিকদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ বগুড়া সান্তাহারে ৪হাজার ৬শত ২১ জন পাচ্ছে ভিজিএফ’র নগদ সহায়তা যশোরের শার্শায় ৫০ জন আনসার ও ভিডিপি সদস‍্যের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরন বিবাহ বার্ষিকীতে শাল্লার ইউএনও’র মানবিক সহায়তা ময়মনসিংহে র‌্যাব-১৪ এর অভিযানে নকল স্বর্ণের বারসহ আটক-০১ সৈয়দপুর আলিয়া মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মাওঃ মনোয়ার আলম আর নেই উলিপুরে একটি চিল উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেলেন উলিপুর ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ঈদ মানেই খুশী ঈদ মানেই আনন্দ, সম্ভাব্য০৬নং করিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী লিটন চন্দ্র দ

সেনাবাহিনীতে চাকরি দেয়ার নামে কুষ্টিয়া কুমারখালী আজাদুল ঘটকের ফাঁদে তিনটি পরিবার

কে এম শাহীন রেজা কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।

২০২১-০৪-০১ ১৭:২১:১৯ /

কুষ্টিয়ার কুমারখারীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূয়া নিয়োগপত্র এবং পরিচয়পত্র দেবার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভয়ংকর এই চক্রটি ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে সর্বশেষ ঢাকা সেনানিবাস থেকে বের করে রেশনসহ বাড়ি পাঠিয়ে দেয় দালাল চক্রটি। দালাল চক্রের হাতে পড়ে কুমারখালীর তিনটি পরিবার চাকরি পাবার আশাতে জনপ্রতি ১৩ লক্ষ টাকা দিয়ে এখন সর্বশান্ত হয়ে পথে বসেছে। ভুক্তভোগি ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে এপ্রিল মাসে কুমারখালী উপজেলার তরুণ মোড়স্থ বাটিকামাড়ার আজাদুল ঘটকের সাথে পরিচয় হয় দুইটি পরিবারের। আজাদুল স্থানীয় ঘটক পাশাপাশি জমির দালালী করে থাকেন। আজাদুল ঘটক প্রথমে ভুক্তভোগির একজনকে প্রস্তাব দেন সেনাবাহিনীতে মালি পদে চাকরি দিবেন। আর নিয়োগপত্র পাওয়ার পর দিতে হবে ৫ লক্ষ টাকা। নিয়োগপত্র পাওয়ার পর টাকা দিতে হবে এমন কথা শুনে এই দালাল চক্রকে বিশ্বাস করে ফেলেন ভুক্তভোগি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। নিয়োগপত্র পাওয়ার পর টাকা দেওয়ার কথা শুনে প্রতারণার শিকার এক ভুক্তভোগির আত্মীয়সহ আরো দুজন সেই প্রস্তাবে রাজি হন। এরপর ২০২০ সালের মে মাসের প্রথম দিকে আজাদুল ঘটক তাদের দুজনকে সাথে করে কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের মালিয়াটের তাঁত শ্রমিক আলমের কাছে নিয়ে যায়। এরপর আজাদুল আর হাসান মিলে তাদের কাগজপত্র জমা নেন। কাগজপত্র জমা নেওয়ার পর তাদেরও টাকা প্রস্তুত করতে বলেন। এরপর হঠাৎ একদিন তাদের খবর দেন তাদের নিয়োগপত্র চলে এসেছে। নিয়োগপত্রে একটিতে দেখানো হয় ২০২০ সালের ২৪ শে আগস্ট ইস্যু করা একটি কাগজে প্রতিরক্ষা মন্ত্রালয়ের অধিনে ১০.১০.২০১৯ ইং তারিখে আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৪.০৮.২০২০ ইং তারিখে ঢাকা সেনানিবাস বোর্ড সভায় নিয়োগ কমিটির সম্মতিক্রমে শাহরিয়ার জয়, পিতা রফিকুল ইসলাম, সাং সোন্দাহ, থানা কুমারখালী, জেলা কুষ্টিয়াকে মালি পদের শূন্য (রাজস্ব) কোটায় নিয়োগ হয়েছে বলে জানায়। ওই নিয়োগপত্রে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে গোলাম কিবরিয়া নামের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। ঠিক একইভাবে উপজেলার ঘাসখালের আবু বকরের ছেলে কাওসার হোসেনকেও এমন ভুয়া নিয়োগপত্র প্রদান করে ভুক্তভোগীরা জানায়। এর আগে সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারার হাবিব নামে একজনকেও এমন নিয়োগপত্র প্রদান করে এই চক্রটি। ভুয়া ওই নিয়োগপত্র দেবার পরই শাহরিয়ার জয়ের থেকে ৫ লক্ষ, কাওসার হোসেনের থেকে ৫ লক্ষ এবং হাবিবের কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে নেন। এরপর আজাদুল ঘটক এবং হাসান ভুক্তভোগি তিনজনকে ঢাকার কচুক্ষেত দক্ষিণ কাফরুল আমতলাতে নিয়ে যায়। সেখানে তাদেরকে রাখা হয় ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে। সে সময় তাদেরকে সেনাবাহিনীর মালি পদে অস্থায়ী একটি পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। ১৪দিন রাখার পর তাদের তেল, চিনি, চাউল, ডাউলসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী হাতে ধরিয়ে বলা হয় এটা রেশন। এরপর তাদের বলা হয় আপনাদের সাময়িক ছুটি দেওয়া হলো বাড়ি চলে যান। পরবর্তীতে অক্টোবর মাসের প্রথমের দিকে ডাকযোগে ভুক্তভোগিদের বাড়িতে সেনাবাহিনীর নকল প্যাড ব্যবহার করে একটি ট্রান্সফার ফরম আসে। সেখানেও গোলাম কিবরিয়ার সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়। এই পত্র মারফত ভুক্তভোগিদের ০৬.১০.২০২০ ইং তারিখে যশোর সেনানিবাসে যেতে বলা হয়। এরপর ওই তিনজনের মধ্যে দুজনকে বাড়ি থাকতে বলে এবং একজনকে পাঠানো হয় যশোর সেনানিবাসে। তাকে যশোর সেনানিবাসে পাশের একটি হোটেলে ৪দিন রাখেন। সেখান থেকে তাকে আবার পাঠানো হয় রংপুর সেনানিবাসে। তখন তার সাথে ছিলো হাসান ও আলম এবং ওই ভুক্তভোগীর পিতা। রংপুরেও যোগদান হবে বলে ৫ দিন রাখেন । তারপর নানা অযুহাত দেখিয়ে নিয়ে আসেন ঢাকাতে। ঢাকা নবীনগর চক্রের অন্যতম সদস্য আলমের বাসাতে রাখা হয় ভুক্তভোগীদের। এরপর ঢাকা সেনানিবাসে যোগদান করতে হবে বলে প্রায় ৩ মাস তার বাসাতে রেখে প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কখনো মিরপুর-১৪, কখনো কচুক্ষেত, কখনো সৈনিক ক্লাবের আশেপাশে নিয়ে যায় প্রতারকচক্র। এভাবে চলে আরও তিন মাস। এভাবে তিনজন মিলে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বেড়ায়। ভুক্তভোগির ভাষ্যমতে, ঢাকা সেনানিবাসে ঢুকিয়ে তাকে প্রথমে মেডিক্যাল করা হয় তারপর জয়েন হয়েছে বলে বের করে দেয়। এভাবে ওই তিনমাস তাকে ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে ঘোরাতে থাকে। আর সে সময় তাদের সাথে থাকতো প্রতারকচক্রের সদস্য কখনো হাসান, কখনো আজাদুল আবার কখনো আলম। একইভাবে তিনদিন ক্যান্টনমেন্টের একটি বাসাতে রাখেন, লাল মিয়া নামের এক ব্যক্তি। তারপর আবার আলমের বাসাতে নিয়ে আসে। এরপর হঠ্যাৎ করেই ঝামেলা হয়েছে বলে তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে সব জানাজানি হয়ে গেলে অন্য চাকরি দিবে বলেও প্রলোভন দেখান। আর তাতে রাজি না হলে টাকা ফেরত দিয়ে দেবে বলে প্রতারচক্রটি জানায়। তবে এইসব কথা কাউকে বললে টাকা ফেরত না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগি পরিবারের লোকজন জানান, তাদের কাছে টাকা চাইলে আজ দিবো, কাল দিবো করে করে এখন আর ফোনই ধরে না, অভিযুক্ত আজাদুল কুমারখালীর বাটিকামারা গ্রামের মৃত পদমুনার ছেলে, একই এলাকার মৃত ইব্রাহিম শেখের ছেলে হাসান আলী ও শিলাইদহ ইউনিয়নের হাসিমপুর এলাকার আলম। এ বিষয়ে আজাদুল ঘটক ও হাসানের সাথে কথা হলে তারা জানান, আমরা টাকা নিয়েছি ইতোমধ্যে হাবিবের ২০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছি। আমরা হাবিবসহ সবার টাকা আস্তে আস্তে ফেরত দিবো। এরকম হবে আমরা জানিনা। আমরা সব টাকা নিয়ে আলমকে দিয়েছি। এ ব্যাপারে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মজিবুর রহমান বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত: আলম ঢাকাতে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। তবে তার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ জাতীয় আরো খবর

দিরাইয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রবাসীর নগদ অর্থ দুস্থদের হাতে তুলে দিলেন পৌর মেয়র

দিরাইয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রবাসীর নগদ অর্থ দুস্থদের হাতে তুলে দিলেন পৌর মেয়র

শাল্লায় কাগজে কলমে প্রকল্প, বাস্তবে নেই অস্তিত্ব।

শাল্লায় কাগজে কলমে প্রকল্প, বাস্তবে নেই অস্তিত্ব।

সার্চ মানবাধিকার সোসাইটির উপদেষ্টা সৌদী প্রবাসী রুকনের উদ্যোগে শতাধিক কর্মহীন মানুষের মাঝে আর্থিক অন

সার্চ মানবাধিকার সোসাইটির উপদেষ্টা সৌদী প্রবাসী রুকনের উদ্যোগে শতাধিক কর্মহীন মানুষের মাঝে আর্থিক অন

বেনাপোলের সাদিপুর পূর্বপাড়ার ৩’শত পরিবারের একমাত্র রাস্তাটি এখন দূর্ঘটনা'র মরণফাঁদ

বেনাপোলের সাদিপুর পূর্বপাড়ার ৩’শত পরিবারের একমাত্র রাস্তাটি এখন দূর্ঘটনা'র মরণফাঁদ

জগন্নাথপুরে বেগম আনোয়ারা ও সোনা মিয়া ট্রাস্ট এর পক্ষ থেকে নগদ অর্থ বিতরণ

জগন্নাথপুরে বেগম আনোয়ারা ও সোনা মিয়া ট্রাস্ট এর পক্ষ থেকে নগদ অর্থ বিতরণ

মধ্যনগরে রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপন

মধ্যনগরে রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপন